হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়
হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় এই বিষয়টি আজ অসংখ্য মানুষের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় বলতে আমরা বুঝি যে, হাঁপানি উপসর্গ যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আর বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
তাই হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার পাশাপাশি নিজের সচেতনতা অনেক বেশি জরুরী। আজকের এই আর্টিকেলে হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় সম্পর্কে সহজ ভাষায় কার্যকর তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
পেজ সুচিপত্রঃ হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়
- হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়
- হাঁপানি কি এবং কেন হয়
- হাঁপানির লক্ষণ ও উপসর্গ
- নিয়মিত চিকিৎসা ও ডাক্তারদের পরামর্শ
- ট্রিগার এড়িয়ে চলার গুরুত্ব
- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা
- নিয়মিত ব্যায়াম ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা
- প্রাকৃতিক ও সহায়ক পদ্ধতি
- নিয়মিত ফলোআপ ও আত্মসচেতনতা
- জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন
- শেষ কথা
হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়
হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় জানতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদী শ্বাস যন্ত্রের রোগ যা শ্বাসনালীর প্রদাহ ও সংকোচনের
কারণে সৃষ্টি হয়। এই রোগে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকে চাপ ধরে, ঘন ঘন কাশি হয়
এবং নিঃশ্বাসের শো শো শব্দ হয়। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে হাঁপানির স্থায়ী কোন
নিরাময় নেই, তবে সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা
সম্ভব।
হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় হিসেবে প্রথমে গুরুত্ব দিতে হয়, নিয়মিত
চিকিৎসা ও ডাক্তারের পরামর্শকে। ইনহেলার ব্যবহার হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের একটি
কার্যকর পদ্ধতি। কারণ এটি সরাসরি শ্বাসনালীতে ওষুধ পৌঁছে দেয়। অনেকেই ইনহেলার
ব্যবহার করতে ভয় পায়, কিন্তু সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এটি নিরাপদ এবং উপসর্গ
কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি নিজের ট্রিগার যেমনঃ ধুলোবালি, ধোঁয়া, ঠান্ডা
বাতাস বা এলার্জি সনাক্ত করে সেগুলো এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
হাঁপানি কি এবং কেন হয়
হাঁপানি মূলত শ্বাসনালির একটি প্রদাহ জনিত সমস্যা। ধুলোবালি, ধোঁয়া, ঠান্ডা
বাতাস, পোষা প্রাণীর লোম, সংক্রমণ, মানসিক চাপ বা এলার্জির কারণে শ্বাসনালি
সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
বংশগত কারণেও অনেকের হাঁপানি হতে পারে। শিশু অবস্থায় শুরু হওয়া হাঁপানি অনেক
সময় বড় হলে কমে যায়, আবার অনেকের ক্ষেত্রে সারাজীবন থেকে যায়।হাপানির মূল
সমস্যা হলো শ্বাসনালীর ভিতরের প্রদাহ।
যখন কোন ট্রিগার উপাদানের সংস্পর্শে আসা হয়, তখন শ্বাসনালী আরো সংকুচিত হয়ে
যায় এবং অতিরিক্ত শ্লেমা তৈরি হয়। এতে করে ফুসফুসে বাতাস ঢোকা বা বের হওয়া
কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থাকেই হাঁপানির অ্যাটাক বলা হয়। হাঁপানি হওয়ার
পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হল বংশগত প্রভাব। পরিবারের কারো হাঁপানি বা
অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়াও
ধুলাবালি, ধোঁয়া, ঠান্ডা বাতাস, ফুলের রেনু, পোষা প্রাণির লোম, ছত্রাক, দূষিত
বাতাস, হাঁপানির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।
হাঁপানির লক্ষণ ও উপসর্গ
হাঁপানির সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুকে চাপ ধরা বা
ব্যথা অনুভব করা। ঘন ঘন কাশি বিশেষ করে রাতে বা ভোরে কাশি বেড়ে যায় এবং
নিঃশ্বাস নেয়ার সময় শব্দ হয় উপসর্গের তীব্রতা ব্যাক্তি ভেদে তীব্র হতে পারে,
আবার কারো হালকা উপসর্গ থাকে আবার কারো ক্ষেত্রে হঠাৎ তীব্র অ্যাটাক দেখা দিতে
পারে। যা জীবন ঝুকির কারন হতে পারে।
হাঁপানির সাধারণ একটা লক্ষ্য হলো শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। বিশেষ করে রাতে বা ভোরের
দিকে শ্বাসকষ্ট বেশি অনুভূত হয়। অনেক সময় বুকে চাপ ধরে বা ভারি ভাব লাগে, যেন
বুকের উপর কিছু চেপে আছে। এই অবস্থায় গভীর শ্বাস নিতে গেলে আরো অস্বস্তি বেড়ে
যায়। আবার অনেকের নিশ্বাস নেয়ার সময় শো শো শব্দ হয় যাকে মেডিকেল ভাষায়
ডাইজিং বলা হয়। সাধারণত ঠান্ডা লাগা, ধুলাবালি বা ধোঁয়ার সংস্পর্শে এলে এই শব্দ
বেশি শোনা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণটি বেশি দেখা যায়।
আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাঁপানির উপসর্গ হিসেবে দেখা যায় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে
পড়া, শ্বাস নিতে গিয়ে কথা বলতে কষ্ট হওয়া এবং শারীরিক পরিশ্রমে অসস্তি দেখা
দেওয়া। তীব্র হাঁপানি অ্যাটাকের সময় ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যেতে পারে, যা
অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষণ। তাই হাঁপানির লক্ষণ ও উপসর্গ সময়মতো সনাক্ত করা
খুবই জরুরী। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিয়মিত চিকিৎসা ও ডাক্তারদের পরামর্শ
হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সাধারণত ইনহেলার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, যা সরাসরি
শ্বাসনালীতে ওষুধ পৌঁছে দেয়। ইনহেলার সাধারণত দুই ধরনের হয়, একটি দীর্ঘমেয়াদি
নিয়ন্ত্রণের জন্য, অন্যটি হঠাৎ অ্যাটাকে সময় ব্যবহার করার জন্য। অনেকেই ভুল
ধারণা করে থাকেন। তারা মনে করেন ইনহেলার আসক্তি তৈরি করে যা সম্পূর্ণ ভুল একটি
ধারনা।
কেননা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার করলে হাঁপানি অনেকটাই
নিয়ন্ত্রণে থাকে। অপ্রয়োজনীয় ঔষধ গ্রহণ ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি ও
কম থাকে। অনেক সময় ভুল তথ্য বা নিজস্ব সিদ্ধান্তের কারণে রোগ আরো জটিল আকার ধারণ
করে। তাই ইন্টারনেট বা অন্যের কথায় ভরসা না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী
চলা বুদ্ধিমানের কাজ। নিয়মিত চিকিৎসা ও ডাক্তারের পরামর্শ সুস্থ ও নিরাপদ
জীবনের চাবিকাঠি। রোগ থাকুক বা না থাকুক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং
সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আমাদের সবারই উচিত।
ট্রিগার এড়িয়ে চলার গুরুত্ব
হাঁপানির ক্ষেত্রে ট্রিগার এড়িয়ে চলার গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে গেলে প্রথমে
আমাদের জানতে হবে ট্রিগার কি। ট্রিগার হলো সেইসব জিনিস বা অবস্থা যেগুলোর
সংস্পর্শে এলে শ্বাসনালী সংকুচিত হয় এবং শ্বাসকষ্ট, কাশি বা হাঁপানি অ্যাটাক
দেখা দেয়। অর্থাৎ যে কারণে হাঁপানের সমস্যা শুরু হয় বা বেড়ে যায় তাই হচ্ছে
ট্রিগার। প্রতিটি হাঁপানি রোগির ট্রিগার এক রকম হয় না। তাই নিজের ট্রিগার
চিহ্নিত করে সেগুলো এড়িয়ে চললে হাঁপানি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
হাঁপানি থেকে দীর্ঘমেয়াদে স্বস্তি পেতে হলে নিজের ট্রিগার গুলো চিহ্নিত করা
জরুরী। কারো ক্ষেত্রে ধুলাবালি সমস্যা তৈরি করে আবার কারো ক্ষেত্রে ঠান্ডা
আবহাওয়া বা ধোঁয়া। ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা, ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়ানো,
অতিরিক্ত ঠান্ডা বা দূষিত পরিবেশে মাস্ক ব্যবহার করা। এসব অভ্যাস হাঁপানি
নিয়ন্ত্রণে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। তাই হাঁপানির নিয়ন্ত্রনে আমাদের প্রত্যেকের
উচিত নিজেদের ট্রিগার গুলো চিহ্নিত করা।
আরও পড়ুনঃ মোবাইল আসক্তি কমানোর ১০ টি কৌশল
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা
হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস তৈরি করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাজা
ফলমূল ও শাকসবজি বিশেষ করে ভিটামিন - সি ও ভিটামিন - ই সমৃদ্ধ খাবার শ্বাসনালীর
প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডযুক্ত খাবার যেমন মাছ শ্বাসলীর
প্রদাহ কমাতে বেশি উপকারী। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও কৃত্রিম রং বা স্বাদ
যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। ভিটামিন ডি এর ঘাটতি হলে হাঁপানির উপসর্গ দেখা
দেয়।
ডিমের কুসুম, দুধ, দই এবং সূর্যের আলো ভিটামিন ডি এর ভালো উৎস। পর্যাপ্ত পানি পান
করলে শ্বাসনালীর শ্লেমা পাতলা থাকে। ফলে শ্বাস নিতে সহজ হয়। প্রতিদিন অন্তত ৮
থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। কুসুম গরম পানি, আদা লেবু চা হাঁপানি রোগীদের
জন্য বেশ উপকারী। এলার্জি জাতীয় খাবার গুলো এড়িয়ে চলা উচিত। যেমন চিংড়ি মাছ,
হাঁসের ডিম, বাদাম বা দুধ অনেকের ক্ষেত্রে এলার্জি তৈরি করে যা হাঁপানি অ্যাটাকের
কারণ হতে পারে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই উচিত।
নিয়মিত ব্যায়াম ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন
হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করাটা ভালো। অনেকেই মনে করে হাঁপানি
রোগীরা ব্যায়াম করতে পারবে না কিন্তু বাস্তবে নিয়মিত হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম
ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। হাঁটা, সাঁতার কাটা ও যোগ ব্যায়াম
শ্বাস-প্রশ্বাসের বিশেষ অনুশীলন। শাসনালী শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। তবে
ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডিপ
ব্রেথিং বা গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস ফুসফুসে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক করে। ধীরে
ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস নেয়া এবং মুখ দিয়ে ছাড়ার অভ্যাস শ্বাস নিয়ন্ত্রণে বেশ
কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আর তাছাড়াও নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন মানসিক
চাপ কমায়। প্রতিদিন সকালে বা সন্ধ্যায় শান্ত পরিবেশে ১০ থেকে ১৫ মিনিট এই
অনুশীলন করলে ফুসফুস ভালো থাকে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ হাঁপানির উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ঘুমের
অভাব ও মানসিক অস্থিরতা হাঁপানি অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত ঘুম, নামাজ
বা মেডিটেশন এবং মানসিক স্বস্তির চর্চা, হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করে। মানসিক চাপ হাঁপানি রোগীদের জন্য একটি নীরব ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।
অনেক সময় দেখা যায় শারীরিক কোনো কারণ না থাকলেও অতিরিক্ত চিন্তা, ভয় বা
উত্তেজনার কারণে হঠাৎই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন কিছু সময় নিজের জন্য রাখা, মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়া
থেকে বিরতি নেওয়া এবং শান্ত পরিবেশের সময় কাটানো মানসিক ভারসাম্য রক্ষা করতে
সাহায্য করে। সকালে বা রাতে কয়েক মিনিট চুপচাপ বসে ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও
ছাড়ার অভ্যাস মনকে শান্ত করে এবং ফুসফুসকে স্বস্তি দেয়। নিজের অনুভূতি চেপে না
রেখে প্রিয় মানুষের সাথে কথা বললে মানসিক চাপ কমে যায়।
প্রাকৃতিক ও সহায়ক পদ্ধতি
অনেকে প্রাকৃতিক উপায়ে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে থাকে। আদা, মধু, হলুদ
ইত্যাদি উপাদান শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে এসবের কোনটাই চিকিৎসকের
নির্ধারিত ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। প্রাকৃতিক উপায় গুলো
শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণের জন্য কেবলমাত্র সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে
পারে। তাই নিয়মিত চিকিৎসার পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপায় গুলো হাঁপানির উপসর্গ
কমাতে সাহায্য করে ঠিকই কিন্তু সেটা চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে নয়।
নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর একটি
পদ্ধতি। নিয়মিত হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং
শ্বাসকষ্ট কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকাল বা সন্ধ্যায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট
ব্যায়াম করলে ধীরে ধীরে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই
চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ হাঁপানি রোগীদের জন্য
অত্যন্ত জরুরি। ধুলাবালি, ঠান্ডা বাতাস, ধোয়া ও দূষিত পরিবেশ থেকে দূরে থাকা
উচিত।
ঘর পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত বিছানা ও পর্দা গুলো পরিষ্কার করা এবং অতিরিক্ত
সুগন্ধি বা কীটনাশক ব্যবহার এড়িয়ে চললে হাঁপানির ঝুঁকি কমে। আমরা বাইরের দূষণ
এড়াতে না পারলেও ঘরের দূষণ যাতে এড়াতে পারি সেই চেষ্টাই করা উচিত। তাই
হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক ও সহায়ক পদ্ধতি গুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো
কখনোই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের বিকল্প নয়।
নিয়মিত ফলোআপ ও আত্মসচেতনতা
হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে ফলোআপে যাওয়া খুবই জরুরী।
নিজের উপসর্গের পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করে, কখন অ্যাটাক বাড়ে তা নোট করে এবং সেই
অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। নিজের সমস্যা গুলোর সম্পর্কে
সচেতন থাকাই হচ্ছে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়। নিয়মিত
ফলোআপ ও আত্মসচেতনতা যেকোনো রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে হাঁপানির মতো শ্বাস জনিত রোগে নিয়মিত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ রাখা
রোগীর সুস্থ জীবন যাপনে বড় ভূমিকা পালন করে। অনেক সময় উপসর্গ কমে গেলে রোগীরা
চিকিৎসায় অবহেলা করে, আর এতে করে ভবিষ্যতে জটিলতা অনেক বাড়ে। নিয়মিত
ফলোআপের মাধ্যমে রোগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। এতে চিকিৎসক প্রয়োজন
অনুযায়ী ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করতে পারে। নতুন পরামর্শ বা জীবন-যাপন সম্পর্কিত
দিক নির্দেশনা দিতে পারে।
হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রে ইনহালার ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি ও কার্যকারিতা যাচাই করা
ফলোআপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আত্মসচেতনতা বলতে নিজের শরীরের পরিবর্তন,
উপসর্গের ধরন ও ট্রিগার গুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা বোঝায়। কোন পরিবেশে বা কোন
খাবারে শ্বাসকষ্ট বাড়ে, কোন সময় কাশি বেশি হয়, এসব বিষয় খেয়াল করলে হাঁপানি
নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।
আরও পড়ুনঃ গুগোল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম
জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন
হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অনেক
গুরুত্বপূর্ণ।অনিয়মিত অভ্যাস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপ আমাদের
শরীর ও মন দুটাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে
তুললে অনেক রোগ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস, পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক সময়ে ঘুমানো,
হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। ঘরের বাইরের দূষণ আমরা এড়িয়ে চলতে না
পারলেও ঘরে বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করতেই পারি।
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন জীবনযাপনে ইতিবাচক প্রভাব
আনে। হাঁটা, যোগব্যায়াম বা প্রণায়াম ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে
সক্রিয় রাখে। পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তির জন্য মেডিটেশন বা প্রার্থনার অভ্যাস
দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। তাই জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা শুধু রোগ
নিয়ন্ত্রণে নয় বরং একটি সুখী ও সুস্থ জীবন গঠনের জন্য সহায়ক।
শেষ কথাঃ হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়
প্রিয় পাঠক, হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় সম্পর্কে আমরা উপরে
বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। মানসিক চাপ হাঁপানির জন্য একটি নীরব ট্রিগার হিসেবে
কাজ করে। তাই কোনো কথা চেপে না রেখে আরেকজনের সাথে শেয়ার করা উচিত। হাঁপানি
নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের কাছে নিয়মিত ফলোআপের পাশাপাশি নিজের থেকে কিছু সচেতনতা
অবশ্যই অবলম্বন করা উচিত।
কেননা হাঁপানি এমন একটি রোগ যা নিয়ে ভয় পাওয়ার চেয়ে সচেতনতা বেশি জরুরী। যদিও
হাঁপানি থেকে সম্পূর্ণ স্থায়ী মুক্তির কোনো নিশ্চিত চিকিৎসা নেই, তবে আধুনিক
চিকিৎসা ব্যবস্থা, নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার, স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এবং ট্রিগার
নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
.webp)
.webp)

রাইসা ওয়ার্ল্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url