ডিজিটাল লাইফ স্টাইলে ঘরোয়া উপায়ে সুস্থ থাকার টিপস
বর্তমান ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে সুস্থ থাকা আমাদের সবার জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অস্বাস্থ্যকর খাবার, অনিয়মিত জীবন যাপন ও মানসিক চাপ মানুষের শরীর ও মন কে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ঘরোয়া উপায়ে সুস্থ থাকার গুরুত্ব দিন দিন আরো বেশি করে অনুভূত হচ্ছে।
ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো সহজলভ্য, কম খরচের এবং সাধারণত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হীন
হওয়ায় এগুলোই আমাদের জন্য নিরাপদ।ঘরোয়া উপায়ে সুস্থ থাকার মধ্যে রয়েছে সুষম
খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং
পর্যাপ্ত ঘুম।
পেজ সুচিপত্রঃ ডিজিটাল লাইফ স্টাইলে ঘরোয়া উপায়ে
সুস্থ থাকার টিপস
- ডিজিটাল লাইফস্টাইলে ঘরোয়া উপায়ে সুস্থ থাকার টিপস
- ডিজিটাল লাইফ স্টাইলে সুস্থ থাকার গুরুত্ব
- অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কমানোর ঘরোয়া কৌশল
- ঘরে বসে শরীর চর্চা ও হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস
- চোখের যত্নে ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপায়
- দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে মেরুদন্ড ও ঘাড়ের যত্ন
- ক্লান্তি দূর করতে মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা
- খাবার ও পানীয় দিয়ে শরীর ফিট রাখা
- ঘুমের রুটিন ঠিক করে সুস্থ জীবন যাপন
ডিজিটাল লাইফ স্টাইলে ঘরোয়া উপায়ে সুস্থ থাকার টিপস
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল লাইফ স্টাইল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ অংশ
হয়ে উঠেছে। কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন সবকিছুই এখন মোবাইল, ল্যাপটপ ও
ইন্টারনেট নির্ভর। তবে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকা ও কম শারীরিক নড়াচড়া
স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কিছু সহজ ঘরোয়া অভ্যাসের মাধ্যমে
ডিজিটাল লাইফ স্টাইলেও সুস্থ থাকা সম্ভব। স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করা
অত্যন্ত জরুরী। একটানা দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে চোখে
চাপ পড়ে এবং মানসিক ক্লান্তি বাড়ে। তাই প্রতি ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর পর
চোখকে বিশ্রাম দিন এবং ২০ সেকেন্ড দূরের কোন বস্তুর দিকে তাকান, এতে চোখের
স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
ঘরে বসে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও ট্রেচিং করা প্রয়োজন। আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি ঘরোয়া উপায় গুলো অনুসরণ করলে আমরা সহজেই সুস্থ কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত জীবন উপভোগ করতে পারি। ঘরোয়া স্বাস্থ্য চর্চা আমাদের জীবনকে করে তোলে আরো স্বাভাবিক ও আনন্দময়, কেননা ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো সহজলভ্য, কম খরচের এবং সাধারণত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হীন হওয়ায় এগুলো সবার জন্যই নিরাপদ। পরিবারের বড়দের কাছ থেকে শেখা এই সহজ অভ্যাসগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ঘরে বসে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও ট্রেচিং করা প্রয়োজন। আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি ঘরোয়া উপায় গুলো অনুসরণ করলে আমরা সহজেই সুস্থ কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত জীবন উপভোগ করতে পারি। ঘরোয়া স্বাস্থ্য চর্চা আমাদের জীবনকে করে তোলে আরো স্বাভাবিক ও আনন্দময়, কেননা ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো সহজলভ্য, কম খরচের এবং সাধারণত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হীন হওয়ায় এগুলো সবার জন্যই নিরাপদ। পরিবারের বড়দের কাছ থেকে শেখা এই সহজ অভ্যাসগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ডিজিটাল লাইফ স্টাইলে সুস্থ থাকার গুরুত্ব
বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে
পড়াশোনা কাজ যোগাযগ, বিনোদন সবকিছুই এখন স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও
ইন্টারনেট নির্ভর। এই ডিজিটাল লাইফস্টাইল যেমন আমাদের বনকে সহজ ও গতিশীল
করেছে, তাই ডিজিটাল যুগে সুস্থ থাকার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে
বেশি। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার ফলে চোখের সমস্যা, মাথা ব্যথা,
ঘাড় ও পিঠের ব্যথা এখন খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনিয়মিত ঘুম,
অতিরিক্ত মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার আমাদের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে
দেয় যা দীর্ঘ মেয়াদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
এছাড়া শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় স্থূলতা, ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাব ধীরে ধীরে আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে পড়ছে। ডিজিটাল লাইফ স্টাইলে সুস্থ থাকা গুরুত্বপূর্ণ কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মানুষের মানসিক চাপ, বিষন্নতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও চোখের সমস্যা বাড়ায়। কিন্তু প্রযুক্তিকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ব্যবহার করলে স্বাস্থ্য ভালো রাখা যায়। তাই ডিজিটাল জগতের সুবিধা ও অসুবিধা বুঝে ভারসাম্য রক্ষা করাটা ভীষণ জরুরি।
এছাড়া শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় স্থূলতা, ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাব ধীরে ধীরে আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে পড়ছে। ডিজিটাল লাইফ স্টাইলে সুস্থ থাকা গুরুত্বপূর্ণ কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মানুষের মানসিক চাপ, বিষন্নতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও চোখের সমস্যা বাড়ায়। কিন্তু প্রযুক্তিকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ব্যবহার করলে স্বাস্থ্য ভালো রাখা যায়। তাই ডিজিটাল জগতের সুবিধা ও অসুবিধা বুঝে ভারসাম্য রক্ষা করাটা ভীষণ জরুরি।
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কমানোর ঘরোয়া কৌশল
বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনের ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন সব ক্ষেত্রেই স্ক্রিনের উপর নির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম আমাদের চোখের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত,মনোযোগের ঘাটতি এবং মানসিক চাপের মতো নানা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ঘরোয়া কিছু কৌশল অবলম্বন করে টাইম কমানো এখন সময়ের দাবি। স্কিন টাইম কমানোর প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা।দিনের কোন সময়ে কতক্ষণ স্কিনটা ব্যবহার
করবেন তা আগেই ঠিক করে নিলে অকারণ স্ক্রলিং কমে যায়। বিশেষ করে সকাল ও
রাতে ঘুমানোর আগে স্কিন ব্যবহার সীমিত করা খুব জরুরী। ঘুমানোর অন্তত এক
ঘন্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ বন্ধ রাখলে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে বিশ্রামের
জন্য প্রস্তুত হয় এবং ঘুমের মান উন্নত হয়। ঘরের ভেতরে স্কিন ফ্রি সময় ও
জায়গা নির্ধারণ করা যেতে পারে, যেমন- খাওয়ার টেবিলে বসে ফোন ব্যবহার না
করা বা শোবার ঘরকে মোবাইল মুক্ত এলাকা হিসেবে রাখা, এতে পরিবারের সদস্যদের
সঙ্গে কথাবার্তা বাড়ে এবং মানসিক সংযোগ ও স্বাভাবাভাবি। শিশুদের ক্ষেত্রে
এই নিয়ম আরো গুরুত্বপূর্ণ কারণ তারা বড়দের আচরণ থেকে সবচেয়ে বেশি শেখে
।
ঘরে বসে শরীর চর্চা ও হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস
আধুনিক ব্যস্ত জীবনে জিমে যাওয়ার সময় বা সুযোগ অনেকেরই হয়ে ওঠে না। তবু
সুস্থ ও কর্মক্ষম শরীর ধরে রাখতে নিয়মিত শরীর চর্চার কোন বিকল্প নেই। এই
প্রেক্ষাপটে ঘরে বসে শরীর চর্চা ও হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস গরে তোলা হতে
পারে সবচেয়ে সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান। অল্প সময় ও সীমিত জায়গার
মধ্যেই ঘরে বসে ব্যায়াম করে সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব। ঘরে বসে ব্যায়াম করার
সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এতে কোন বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না।
প্রতিদিন
মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় বের করলেই হাটা, স্ট্রেচিং, ফ্রি হ্যান্ড
এক্সারসাইজ, যোগব্যায়াম, কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করা যায়। সকালে
ঘুম থেকে উঠে বা সন্ধ্যায় কাজ শেষে এই ব্যায়ামগুলো করলে শরীরের জরতা দূর
হয় এবং মন ও ফুরফুরে থাকে। ঘরে বসে শরীর চর্চা করার ক্ষেত্রে নিয়মিততা,
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট সময় বেছে নিয়ে প্রতিদিন একই সময়
ব্যায়াম করার চেষ্টা করলে তা অভ্যাসে পরিণত হয়। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য
সদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে ব্যায়াম করলে আগ্রহ ও উৎসাহ দুটাই বাড়ে। হালকা
ব্যায়াম হলেও নিয়মিত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বাড়ে।
চোখের যত্নে ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপায়
বর্তমান সময়ে পড়াশোনা, কাজ কিংবা বিনোদনের জন্য দীর্ঘ সময় মোবাইল,
কম্পিউটার ও টেলিভিশনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এর ফলে চোখে
জ্বালা, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা ও মাথা ব্যাথার মত নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই
চোখ সুস্থ ও সতেজ রাখতে নিয়মিত যত্ন নেয়া অত্যন্ত জরুরি। ঘরোয়া ও
প্রাকৃতিক উপায়ে চোখের যত্ন নেয়া সহজ, নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদে উপকারী।
চোখের যত্নের প্রথম ধাপ হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম। একটানা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের
দিকে তাকিয়ে না থেকে প্রতি 20 মিনিট পর পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের
কোন বস্তুর দিকে তাকানোর অভ্যাস করা যেতে পারে যা "২০-২০-২০ নিয়ম" নামে
পরিচিত।
এতে চোখের পেশি আরাম পায় এবং চোখে ক্লান্তি কমে যায়।
পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুম চোখের স্বাস্থ্যের জন্য
অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রাকৃতিক উপায়ে চোখের আরাম পেতে ঠান্ডা পানিতে চোখ
ধোয়া একটি সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে
পরিষ্কার ঠান্ডা পানিতে চোখ ধুলে চোখে জ্বালা ও লালচে ভাব কমে। এছাড়া
পরিষ্কার কাপড়ের মোড়ানো বরফ বা ঠান্ডা পানিতে ভেজানো তুলা চোখের উপর
কয়েক মিনিট রাখলে চোখ সতেজ এবং ফোলা ভাবটা কমে যায়।
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে মেরুদন্ড ও ঘাড়ের যত্ন
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা আজকাল অনেকেরই দৈনন্দিন বাস্তবতা- অফিস ডেস্ক,
ল্যাপটপ, অনলাইন ক্লাস বা ফ্রিল্যান্সিং সব ক্ষেত্রেই। কিন্তু টানা বসে
থাকার এই অভ্যাস ধীরে ধীরে মেরুদন্ড ও ঘাড়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সঠিক যত্ন না নিলে ঘাড় ব্যথা, কোমর ব্যথা, ডিসকের সমস্যা এমনকি
দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা ও দেখা দিতে পারে । তাই দীর্ঘ সময় বসে কাজ
করলেও কিভাবে মেরুদন্ড ও ঘাড় সুস্থ রাখা যায় সে বিষয়ে সচেতন হওয়া
জরুরি।
সঠিক বসার ভঙ্গি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চেয়ারে বসার সময়
মেরুদন্ড সোজা রাখতে হবে এবং কোমরের নিচে হালকা সাপোর্ট থাকা ভালো। ঘাড় যেন
সামনে বেশি ঝুকে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কম্পিউটার স্ক্রিন চোখের
সমান উচ্চতায় রাখলে ঘাড়ের উপর চাপ কম পড়ে । অনেকেই অজান্তে সামনে ঝুঁকে
কাজ করেন যাকে বলা হয় "টেক নেক"-এটি ঘাড়ের জন্য খুব ক্ষতিকর। দীর্ঘ সময়
একটানা বসে থাকা উচিত না। প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পরপর দুই থেকে পাঁচ
মিনিটের বিরতি নেওয়া ভালো। এই সময়টায় দাঁড়িয়ে হালকা হাটাহাটি করা,
হাত-পা নাড়াচাড়া করা বা জানালার দিকে তাকিয়ে চোখ, ঘাড় কে আরাম দেওয়া
যেতে পারে।
ক্লান্তি দূর করতে মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা
দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ, প্রতিযোগিতা আর অনিশ্চয়তার মাঝে
ক্লান্তি এখন অনেকের নিত্য সঙ্গী। এই ক্লান্তি শুধু শারীরিক নয় অনেক সময় তা
মানসিকও হয় যা ধীরে ধীরে আমাদের কাজের আগ্রহ, মনযোগ ও জীবনের আনন্দ কমিয়ে
দেয়। তাই ক্লান্তি দূর করতে শারীরিক বিশ্রামের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য
পরিচর্যার গুরুত্ব অপরিসীম। মানসিক ক্লান্তির একটি বড় কারণ হলো অবিরাম
চিন্তা ও চাপ, কাজ, পরিবার, ভবিষ্যৎ সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে মন বিশ্রাম
নিতে ভুলে যায়।
এমন অবস্থায় নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়া খুব জরুরী। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময়
এমন কাজে ব্যয় করা উচিত যা মনকে শান্ত করে। যেমন বই পড়া, গান শোনা,
প্রকৃতির মাঝে হাঁটাহাঁটি করা এসব কাজ মস্তিষ্ককে আরাম দেয় এবং নেতিবাচক
চিন্তা থেকে সাময়িক মুক্তি এনে দেয়। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাও মানসিক
স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে ক্লান্তি বা দুশ্চিন্তা চেপে রাখেন যা
পরে আরো বড় চাপ তৈরি করে।
খাবার ও পানীয় দিয়ে শরীর ফিট রাখা
শরীর ফিট রাখা মানে শুধু ব্যায়াম করা নয়; এর সঙ্গে খাবার ও পানীয়
সঠিক নির্বাচন গভীরভাবে জড়িত। আমরা প্রতিদিন যা খাই ও পান করি সেটাই
আমাদের শরীরের শক্তি,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং কর্মক্ষমতা নির্ধারণ করে। তাই
সুস্থ ও ঠিক থাকতে হলে খাদ্যভাসের প্রতি সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরী। ঠিক
থাকার জন্য সুষম খাবার গ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্য
তালিকায় শর্করা, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ এই পাঁচটি উপাদান সঠিক
অনুপাতে থাকা দরকার।
ভাত বা রুটি থেকে শক্তি পাওয়া যায়। মাছ, ডাল, ডিম ও মাংস শরীরের পেশী গঠনে
সাহায্য করে। আর শাকসবজি ও ফলমূল শরীরকে সতেজ ও রোগমুক্ত রাখে। অতিরিক্ত তেল,
ভাজাপরা খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভালো। পানীয়ের ক্ষেত্রে পানি সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ, পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, হজমে
সাহায্য করে এবং শরীর থেকে বজ্র বের করে দেয়। অনেক সময় ক্লান্তি বা মাথা
ব্যথার কারণ হয় পানি শূন্যতা। দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করার
অভ্যাস শরীর সতেজ রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
ঘুমের রুটিন ঠিক করে সুস্থ জীবন যাপন
সুস্থ জীবন যাপনের জন্য ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের
শরীর ও মন ঠিক মতো কাজ করার জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। ঘুম শুধু
শারীরিক ক্লান্তি দূর করে না বরং মানসিক স্বাস্থ্য ও স্মৃতিশক্তি উন্নত রাখতে
সাহায্য করে। অনিয়মিত বা অপর্যাপ্ত ঘুম দীর্ঘ মেয়াদের স্বাস্থ্য সমস্যা
যেমন হার্টের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি, চুল ও ত্বকের সমস্যা এবং মনোযোগের ঘাটতি
সৃষ্টি করতে পারে। ঘুমের রুটিন ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত সময় ঘুমানো এবং ওঠার
অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরী।
প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যাওয়া-ওঠা শরীরের জৈব ঘড়িকে সঠিক রাখে। এটি রাতের
ঘুমের মান বাড়ায় এবং সকালে সতেজ ভাবে উঠতে সাহায্য করে। ঘুমের আগে হালকা বই
পড়া, ধ্যান করা মন কে শিথিল করে এবং ঘুমের মান উন্নত করে। ঘুমের পরিবেশও
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে আলো ও শব্দ কম রাখা, আরামদায়ক বিছানা ব্যবহার করা
এবং ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা ঘূমকে প্রাকৃতিক ও গভীর করে। এছাড়া ঘুমের
আগে ভারী খাবার, চা-কফি বা মোবাইল ব্যবহারের সীমিত থাকা উচিত কারণ এগুলো
ঘুমকে ব্যাহত করে।
শেষকথা
ডিজিটাল লাইফ স্টাইলে সুস্থ থাকার শেষ কথা হলো "সচেতনতা ও ভারসাম্য" অর্থাৎ প্রযুক্তিকে সুবিধার জন্য ব্যবহার করা কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা। নিয়মিত বিরতি নেওয়া ভালো; ঘুম নিশ্চিত করা এবং বাস্তব জীবনের সামাজিক সম্পর্ক ও শারীরিক কার্যকলাপে মনোযোগ দেওয়া। আর তা না হলে মনোযোগ হ্রাস, দৃষ্টিশক্তি ও ঘুমের সমস্যা বাড়ে যা আমাদের স্বাস্থ্যহানি ঘটায়। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে কিন্তু এর দাসত্ব নয়। সুস্থতার জন্য প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করুন প্রযুক্তি যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ না করে। ডিজিটাল ডিভাইস গুলো আপনার জীবনের অংশ হতে পারে কিন্তু সেগুলোকে আপনার জীবনের নিয়ন্ত্রক হতে দেবেন না। সুস্থ থাকার জন্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শেষ কথা।
রাইসা ওয়ার্ল্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url