ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করার উপায়
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তথ্য
আদান-প্রদান, শিক্ষা, বিনোদন কিংবা আয় সব ক্ষেত্রেই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই অনলাইন জগতের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলো ব্লগিং।
ব্লগিং বলতে মূলত নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে নিয়মিত লেখা প্রকাশ করাকে বোঝায়, যেখানে
পাঠকের জন্য থাকে তথ্য, অভিজ্ঞতা ও সমাধান। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর
সংখ্যা দ্রুত বাড়ার কারনে ব্লগিং এখন কেবল শখ নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় আয়ের উৎসে
পরিণত হয়েছে।
পেজ সুচিপত্রঃ ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করার উপায়
- ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করার উপায়
- ব্লগিং কি এবং কেন এটি জনপ্রিয়
- ব্লগ শুরু করার জন্য কি কি প্রয়োজন
- কোন বিষয়ে ব্লগ করলে বেশি আয় হয়
- ব্লগিংয়ে কন্টেন্টের গুরুত্ব কেমন হওয়া উচিত
- গুগোল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার উপায়
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়
- স্পন্সরড পোস্ট ও অন্যান্য আয়ের উৎস
- ব্লগিংয়ে সফল হতে কতো সময় লাগে
- নতুনদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করার উপায়
ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করা এখন আর কল্পনার বিষয় নয়, বরং বাস্তব ও প্রমানিত একটি
আয়ের মাধ্যম। সঠিক পরিকল্পনা, উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন এবং নিয়মিত মান সম্মত
কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে যে কেউ ব্লগিং থেকে আয় করতে পারে। যদিও শুরুতে তেমন আয়
না হতে পারে, তবে ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সময়ের সাথে সাথে ব্লগটি একটি
শক্তিশালী আয়ের উৎসে পরিনত হতে পারে। ব্লগিং মূলত একটি দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগ
যেখানে সময় ও শ্রমই সবচেয়ে বড় পুজি। এক সময় ব্লগিং কে শুধুই ব্যক্তিগত ডায়েরি বা
মতামত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ধরা হতো।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্লগিং এখন একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবসায় রুপ
নিয়েছে। অনেক তরুণ শিক্ষার্থী, ফ্রিলান্সার ও চাকরিজীবী অতিরিক্ত আয়ের জন্য
ব্লগিং বেছে নিচ্ছেন, ঘরে বসে কাজ করার সুবিধা, সল্প বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক বাজারে
কাজ করার সুযোগ ব্লগিংকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বাংলা ভাষায় মান সম্মত
কনটেন্টের চাহিদা থাকায় বাংলাদেশী ব্লগারদের জন্য এটি একটি অনেক বড় সুযোগ। তাই
ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করলে যে কেউ একজন ভাল ব্লগার হতে পারে।
ব্লগিং কি এবং কেন এটি জনপ্রিয়
ব্লগিং হলো ইন্টারনেটে নিয়মিত তথ্যবহুল লেখা প্রকাশ করার একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে
নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও মতামত মানুষের কাছে তুলে ধরা যায়। দেশে ইন্টারনেট
ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে ব্লগিং ও জনপ্রিয় হচ্ছে। অনেকেই ব্লগিং কে
শখ হিসেবে শুরু করে পরে এটিকে পেশায় রুপান্তর করছে। ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ থাকায়
তরুণদের কাছে ব্লগিং বেশ আকর্ষণীয়। আর ব্লগিংয়ে একটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
করা যায়, যা শর্ট ভিডিও বা সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টের মাধ্যমে সম্ভব নয়। লেখকের
নিজস্ব কণ্ঠস্বর ও ব্যক্তিত্ব ব্লগের মাধ্যমে প্রকাশ পায় যা পাঠকের সাথে একটি
ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করে। ব্লগিং জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো নিজেকে প্রকাশ
করার স্বাধীনতা। একজন ব্লগার নিজের পছন্দের বিষয় যেমন- শিক্ষা, প্রযুক্তি, ভ্রমন,
স্বাস্থ্য, খেলাধুলা কিংবা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখতে পারে। এতে লেখকের
চিন্তা ধারা ও সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়। অনেকেই ব্লগিংকে নিজের মতামত
জানানোর শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ
হলো আয়ের সুযোগ। বর্তমানে অনেক মানুষ ব্লগিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে। সহজ
শুরু, কম খরচ, সৃজনশীলতার সুযোগ এবং আয়ের সম্ভাবনার কারণে ব্লগিং দিন দিন আরও
জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ব্লগ শুরু করার জন্য কি কি প্রয়োজন
ব্লগ শুরু করার জন্য প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা নিস নির্বাচন করতে হবে। এরপর
একটি ডোমেইন নাম ও ভালো মানের হোসটিং কিনতে হয়। ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে বর্তমানে
ব্লগিংয়ের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম। পাশাপাশি বেসিক লেখালেখি ও ইন্টারনেট
ব্যবহারের দক্ষতা থাকলেই শুরু করা যায়। শুরুতে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন পরে না। যে
বিষয়ে আপনার আগ্রহ ও জ্ঞান আছে সেটি বেছে নিলে নিয়মিত ভালো কনটেন্ট লেখা সহজ হয়।
পাঠকের উপকার হয় এমন তথ্যবহুল, সহজ ভাষার ও মৌলিক লেখা দিতে হবে। কপি করা
কন্টেন্ট ব্লগের ক্ষতি করে। নিয়মিত পোস্ট করা ব্লগের সফলতার জন্য খুব
গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে ওয়ার্ডপ্রেস সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ব্যবহারবান্ধব। এছাড়া Blogger বা Wix
দিয়েও ব্লগ শুরু করা যায়। ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করলে কাস্টমাইজ ও ভবিষ্যতে আয় করার
সুযোগ বেশি থাকে। SEO সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা থাকলে ভাল হয়। সার্চ ইঞ্জিনে
ব্লগকে উপরে দেখানোর জন্য কিওয়ার্ড ব্যবহার, শিরোনাম ঠিক করা ও মেটা ডেসক্রিপসন
জানা দরকার। ধৈর্য ও নিয়মিত পরিশ্রম পারে ব্লগ থেকে সফলতা পাইয়ে দিতে। নিয়মিত
লেখা, শেখা ও উন্নতির চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে সফল হওয়া সম্ভব। তাই বলা যায় সময় ও
পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্লগিং কে একটি আয়ের উৎস বানানো সম্ভব।
কোন বিষয়ে ব্লগ করলে বেশি আয় হয়
ব্লগ থেকে বেশি আয় করতে হলে সঠিক বিষয় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব বিষয়েই আয়
সম্ভব, তবে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের চাহিদা বেশি এবং বিজ্ঞাপনদাতারা এসব বিষয়ে বেশি
টাকা খরচ করে। ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন আয়। ফ্রিলান্সিং, ইউটিউব, অ্যাফিলিয়েট
মার্কেটিং, ড্রপশিপিং, এসইও, ফেসবুক মার্কেটিং ইত্যাদি বিষয়ে ব্লগ করলে বেশি আয়
হয়। কারন এই বিষয়গুলোতে বিজ্ঞাপনের CPC বেশি এবং পাঠকেরা সাধারনত শেখার জন্য
আগ্রহী থাকে। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সফটওয়্যার, অ্যাপ, ওয়েব হোসটিং বা বিভিন্ন
অনলাইন টুলের রিভিউ ব্লগে ভালো আয় হয়। অ্যাফিলিয়েট লিঙ্কের মাধ্যমে এখান থেকে বড়
অঙ্কের কমিশন পাওয়া যায়।
ওজন কমানো, সাস্থকর খাবার, ব্যায়াম, মানসিক স্বাস্থ্য বা ঘরোয়া স্বাস্থ্য টিপস
নিয়ে ব্লগের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে এখানে ভুল তথ্য না দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও
গবেষণাভিত্তিক লেখা দেওয়া জরুরি। ব্যাংকিং, বিনিয়োগ, সঞ্চয়, ক্রেডিট কার্ড, বীমা,
শেয়ার বাজার ইত্যাদি বিষয় খুব বেশি আয় দেয়।এই বিষয়ে বিজ্ঞাপনদাতারা বেশি অর্থ
ব্যয় করে, তাই ব্লগ থেকে ভাল আয়ের সুযোগ থাকে। আর ভ্রমন ও লাইফস্টাইলে যদিও
প্রতিযোগিতা বেশি, তবুও ইউনিক অভিজ্ঞতা, অনলাইন কোর্স, ভ্রমন গাইড ও বাজেট টিপস
দিলে আয় করা সম্ভব।
ব্লগিংয়ে কনটেন্টের গুরুত্ব কেমন হওয়া উচিত
ব্লগিংয়ে কনটেন্টই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একটি ব্লগের সফলতা অনেকটাই নির্ভর
করে কন্টেন্টের মান, উপযোগিতা ও উপস্থাপনের উপরে। ভালো ডিজাইন বা বেশি প্রচার
থাকলেও যদি কন্টেন্ট দুর্বল হয় তাহলে পাঠক ধরে রাখা সম্ভব হয় না। কন্টেন্ট হতে
হবে পাঠককেন্দ্রিক। লেখার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পাঠকের সমস্যার সমাধান দেওয়া বা
তাকে নতুন ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া। পাঠক কি জানতে চায়, তার প্রশ্নের উত্তর দিতে
পারলেই কনটেন্টের মূল্য বারে।
কন্টেন্ট অবশ্যই মৌলিক ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হয়। কপি করা লেখা সার্চ ইঞ্জিনে
র্যাঙ্ক করে না এবং পাঠকের আস্থা নষ্ট করে। নিজের ভাষায়, অভিজ্ঞতা বা
নির্ভরযোগ্য তথ্যসুত্রের ভিত্তিতে লেখা কন্টেন্ট দীর্ঘ মেয়াদে ব্লগের সুনাম
বাড়ায়। সহজ ও পরিস্কার ভাষা ব্যবহার করতে হবে। জটিল শব্দ বা অপ্রয়োজনীয় ঘুরপাক
পাঠোককে বিরক্ত করে। ছোটো অনুচ্ছেদ, সাব হেডিং ও বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করলে লেখা
পড়তে সহজ হয়। পুরনো তথ্য সময়মত হালনাগাদ করা এবং নিয়মিত নতুন পোস্ট প্রকাশ করা
ব্লগের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভিজিটার বাড়ায়।
গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার উপায়
বর্তমান যুগে অনলাইন থেকে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম গুলোর
একটি হলো গুগল এডসেন্স । সঠিক পরিকল্পনা ও ধৈর্য থাকলে এডসেন্স আপনার জন্য
নিয়মিত আয়ের একটি শক্তিশালী উৎস হতে পারে। গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার প্রধান
উপায় গুলোর মধ্যে একটি হল মানসম্মত ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করা। আপনার
ওয়েবসাইটে অবশ্যই নিজস্ব ও তথ্য বহুল কন্টেন্ট থাকতে হবে। সাধারণত প্রযুক্তি,
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, রান্না, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ইনকাম ইত্যাদি
বিষয়গুলো অ্যাডসেন্সের জন্য বেশ উপযোগী।
নিয়মিত নতুন আর্টিকেল প্রকাশ করলে গুগল আপনার আপনার সাইটকে গুরুত্ব দেয়।
এডসেন্সের নীতিমালা মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কপিরাইট কনটেন্ট, ভুয়া তথ্য,
প্রাপ্তবয়স্ক বা নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু ব্যবহার করলে একাউন্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে।
তাই শুরু থেকেই গুগলের নীতিমালা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। ট্রাফিক বাড়ানো
এডসেন্স আয়ের মূল চাবিকাঠি। যত বেশি ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে আসবে তত বেশি
বিজ্ঞাপন দেখা ও ক্লিক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়
অনলাইনে আয় করার আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি গুলোর মধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এতে নিজের কোন পণ্য না থাকলেও অন্যের পণ্য বা সেবা
প্রচার করে কমিশনের মাধ্যমে আয় করা যায়। সঠিক কৌশল জানলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর
মূল ধারণা খুবই সহজ। বিভিন্ন কোম্পানির বা অনলাইন প্লাটফর্ম তাদের পণ্য বিক্রির
জন্য অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু করে। আপনি সেই প্রোগ্রামে যোগ দিয়ে একটি বিশেষ
লিংক পান।
যখন কেউ আপনার লিংক এর মাধ্যমে পণ্য কিনে তখন আপনি নির্দিষ্ট হারে কমিশন পান। এই
কাজ শুরু করার জন্য প্রথমে প্রয়োজন একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি হতে পারে একটি
ওয়েবসাইট বা ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ কিংবা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া
অ্যাকাউন্ট। এরপর আপনার দর্শকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করে সেগুলো
রিভিউ, টিউটোরিয়াল বা তুলনামূলক আলোচনা তৈরি করতে হয়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
এর সফল হওয়ার জন্য বিশ্বাসযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য বা জোর করে
পণ্য বিক্রির চেষ্টা করলে দর্শক আস্থা হারায়। তাই যে পণ্য সম্পর্কে ভালো ধারণা
আছে বা নিজে ব্যবহার করেছেন সেগুলোর প্রচার করাই উত্তম।
স্পন্সারড পোস্ট ও অন্যান্য আয়ের উৎস
বর্তমান যুগে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ব্লগারদের জন্য আয়ের সুযোগ দিন বাড়ছে। এর
মধ্যে স্পন্সরড পোস্ট এবং বিভিন্ন বিকল্প আয়ের উৎস এখন বেশ জনপ্রিয়। নিয়মিত
মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করলে এসব মাধ্যম থেকে ভালো আয় করা সম্ভব। স্পন্সরড পোস্ট
বলতে বোঝায় কোন কোম্পানি বা ব্র্যান্ড তাদের পণ্য বা সেবা প্রচারের জন্য আপনার
ওয়েবসাইট, ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অর্থের বিনিময়ে পোস্ট প্রকাশ করে। যদি
আপনার প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ভিজিটর, ভালো এনগেজমেন্ট এবং নির্দিষ্ট একটি নিস থাকে
তাহলে ব্র্যান্ডগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হয়।
স্পন্সরড পোস্ট লেখার সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরী, যাতে পাঠক বুঝতে পারে এটি
একটি প্রোমোশনাল কন্টেন্ট। স্পন্সরড পোস্ট ছাড়াও আরো অনেক আয়ের উৎস রয়েছে।
যেমন ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি, ই-বুক, অনলাইন কোর্স বা প্রিমিয়াম কন্টেন্ট।
এছাড়া অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, গুগল অ্যাডসেন্স এবং মেম্বারশিপ বা সাবস্ক্রিপশন
সিস্টেম থেকেও নিয়মিত আয় করা যায়। অনেকে আবার ফ্রিল্যান্স সার্ভিস যেমন
কনটেন্ট রাইটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন বা কনসাল্টিং সেবা দিয়ে আয় করে থাকেন। মূল
কথা হলো একাধিক আয়ের উৎস তৈরি করা। এতে একটি উৎস থেকে আয় কমে গেলেও অন্য উৎস
গুলো আপনার আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
ব্লগিংয়ে সফল হতে কত সময় লাগে
অনেক নতুন ব্লগারের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে- ব্লগিংয়ে সফল হতে আসলে কত সময়
লাগে। এর সরল কোন নির্দিষ্ট উত্তর নেই। কারণ সফলতা নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের
উপরে। তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বলা যায় ব্লগিং একটি ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার
কাজ। সাধারণভাবে একটি নতুন ব্লগ থেকে নিয়মিত ট্রাফিক ও আয় আসতে ছয় মাস থেকে এক
বছর সময় লেগে যেতে পারে। শুরুতে গুগল সার্চে রাঙ্ক পেতে সময় লান, যাকে অনেকেই
"স্যান্ডবক্স পিরিয়ড" বলে থাকেন। এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট
প্রকাশ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্লগিংয়ের দ্রুত বা ধীরে সফল হওয়া নির্ভর করে
কিছু মূল বিষয়ের উপর।
যেমন সঠিক নিস নির্বাচন, কন্টেন্টের মান, SEO কৌশল, নিয়মিত আপডেট এবং পাঠকের
চাহিদা বোঝা। যারা কপি কনটেন্ট ব্যবহার করে বা অনিয়মিত পোস্ট করে তাদের ক্ষেত্রে
সফলতা আরও দেরিতে আসে। এছাড়া ট্রাফিক সোর্স ও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু গুগলের উপর
নির্ভর না করে সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল লিস্ট ও অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করলে
দ্রুত অডিয়েন্স তৈরি করা সম্ভব। সবশেষে বলা যায় ব্লগিংয়ে রাতারাতি সফলতা আশা
করা ভুল। যারা ধৈর্য ধরে কমপক্ষে এক বছর নিয়মিত কাজ করে, শেখে ও উন্নতি করে,
তারাই ব্লগিংয়ে প্রকৃত সফলতা অর্জন করতে পারে।
নতুনদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
ব্লগিং বর্তমানে অনলাইনে আয় করার একটি জনপ্রিয় ও কার্যকর মাধ্যম। তবে নতুনদের
জন্য শুরুটা অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে। সঠিক দিক নির্দেশনা পেলে ব্লগিং
থেকে আয় করা অনেক সহজ হয়ে যায়। প্রথমে সঠিক নিস নির্বাচন করা খুব জরুরী। এমন
একটি বিষয় বেছে নিতে হবে যেটি সম্পর্কে আপনার আগ্রহ আছে এবং মানুষ অনলাইনে
নিয়মিত সার্চ করে। খুব বেশি প্রতিযোগিতা মূলক নিস এড়িয়ে চললে শুরুতে ভালো ফল
পাওয়া যায়। মানসম্মত ও নিজস্ব কন্টেন্ট তৈরি করাটা জরুরী। কপি করা লেখা কখনোই
দীর্ঘ মেয়াদে লাভজনক নয়।
পাঠকের সমস্যার সমাধান দেয়- এমন তথ্যবহুল আর্টিকেল লিখলে ধীরে ধীরে ট্রাফিক
বাড়বে। SEO শেখা ও প্রয়োগ করা নতুনদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই আয়
নিয়ে বেশি চিন্তা না করে ধৈর্য ধরে কাজ করাটা প্রয়োজন। প্রথমে কয়েক মাসে আয়
কম বা শূন্য হতে পারে এটি স্বাভাবিক। এই সময়টাকে শেখার সুযোগ হিসেবে নিন। সবশেষে
বলা যায় একাধিক আয়ের পথ রাখুন গুগোল অ্যাডসেন্সের পাশাপাশি অ্যাফিলিয়েট
মার্কেটিং, স্পন্সারড পোস্ট ও ডিজিটাল প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে ব্লগিং থেকে আয়ের
সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
শেষ কথা
ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করা কোন রাতারাতি ধনী হওয়ার জাদু নয়; বরং এতে প্রয়োজন ধৈর্য্য ও নিয়মিত পরিশ্রম আর শেখার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। শুরুতে হয়তো ভিজিটর কম থাকবে, আয়ও হবে না এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি যদি মানসম্মত কন্টেন্ট লিখতে থাকেন, পাঠকের সমস্যার সমাধান দেন এবং নিজের ব্লগকে ধীরে ধীরে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারেন, তাহলে সাফল্য আসবেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু টাকার কথা ভেবে ব্লগিং শুরু না করা।
যে বিষয়টি আপনি ভাল বোঝেন বা যেটা নিয়ে লিখতে ভালোবাসেন সেটিকে বেছে নিন। সময়ের সাথে সাথে SEO, কন্টেন্ট মার্কেটিং এবং পাঠকের চাহিদা বোঝার দক্ষতা তৈরি হবে। তখন গুগল অ্যাডসেন্স, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, স্পন্সারড পোস্ট বা নিজের পণ্য ও সার্ভিসের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। মনে রাখবেন ব্লগিং একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। আপনি যত বেশি ধৈর্য্য ধরবেন, তত বেশি শিখবেন।
.webp)
.webp)

.webp)
.webp)
রাইসা ওয়ার্ল্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url