নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম

নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে আজকের এই আর্টিকেলটি হতে পারে শুধুমাত্র আপনার জন্যই। সঠিক নিয়মে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ ব্যবহার করলে ত্বক হবে পরিষ্কার, উজ্জ্বল ও ব্রন মুক্ত। প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন নিতে চাইলে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের উপকারিতা অপিরিসীম।

নিমপাতা-ও-কাঁচা-হলুদ-মুখে-দেওয়ার-নিয়ম

ব্রণ, দাগছোপ, অতিরিক্ত তেল ও ত্বকের সংক্রমন দূর করতে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ অত্যন্ত কার্যকর একটি ঘরোয়া সমাধান। আজকের এই আর্টিকেলে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

পেজ সূচিপত্রঃ নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়া প্রাকৃতিক রূপচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রাচীন কাল থেকেই আয়ুর্বেদ ও ঘরোয়া চিকিৎসায় এই দুই উপাদান ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আধুনিক সময়ে কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মানুষ সচেতন হওয়ায় আবারও সেই প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে মানুষ বেশি ঝুঁকছে। সঠিক নিয়মে মুখে কাঁচা হলুদ ও নিম পাতা ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর থাকে। 

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার আগে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। প্রথমে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এরপর ৬-৭ টি তাজা নিমপাতা ভালোভাবে ধুয়ে এবং অল্প পরিমাণ কাঁচা হলুদের সাথে বেটে একটা পেস্ট বানাতে হবে। প্রয়োজন হলে সামান্য পানি বা গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্টটি একটু পাতলা করে নিতে হবে। এই পেস্ট মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। পেস্ট শুকিয়ে গেলে জোরে ঘষে না তুলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। 

সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। প্রতিদিন ব্যবহার করা উচিত না, কেননা এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে। যাদের ত্বক শুষ্ক তারা এই পেস্টের সামান্য মধু বা কাঁচা তরল দুধ মিশালে ভালো ফল পাবেন। আর তৈলাক্ত ত্বকের জন্য নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ ব্যবহারই যথেষ্ট। নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণ ধীরে ধীরে কমে যায় এবং নতুন করে ব্রণ বের হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়। পাশাপাশি এটি ত্বকের কালচে দাগ ও রোদে পোরা ভাব কমাতে সাহায্য করে। 

দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়। তবে প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় ফল পেতে কিছুটা সময় লাগে কিন্তু ধৈর্য্য ধরে ব্যবহার করলে ভালো একটি ফলাফল পাওয়া যায়। অন্যদিকে, সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সরাসরি নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের পেস্ট ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কানের পিছনে বা হাতে অল্প পেস্ট লাগিয়ে ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। কোন জ্বালা বা অস্বস্তি না হলে মুখে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অবশ্যই চোখের চারপাশে এই পেস্ট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

নিমপাতার পরিচিতি ও গুনাগুন

নিমপাতা হলো একটি বহুল পরিচিত ও প্রাকৃতিক ঔষধি গুনসম্পন্ন উদ্ভিদ, যা আদিকাল থেকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।নিম পাতায় রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Azadirachta indical। নিমপাতা রক্ত পরিশোধনে সাহায্য করে এবং শরীরের ভেতরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত নিমপাতা বা নিমের রস সেবনে ত্বকের সমস্যা যেমন ব্রণ, ফুসকুড়ি ও এলার্জি কমে যায়।

নিমপাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুন হলো ত্বক ও চুলের যত্নে নিম পাতার ব্যবহার। নিম পাতা বাটা বা নিমের রস মুখে ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার থাকে এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। এটি অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে ও ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। পাশাপাশি চুলে নিমপাতা ব্যবহার করলে খুশকি দূর হয়, চুল পড়া কমে এবং মাথার ত্বক সুস্থ থাকে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিমপাতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং হজম শক্তি উন্নত করে।

এছাড়া দাঁত ও মারির সমস্যায় নিমের ডাল বা পাতা ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত নিম পাতা ব্যবহার করলে মুখের দুর্গন্ধও কমে যায়। নিম পাতা পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি বাতাস বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে। তাই অনেক বাড়ির আশেপাশে নিম গাছ লাগানো হয়। তাই বলা যায়, নিমপাতা প্রকৃতির এক অমূল্য উপহার। ত্বক, চুল ও সাস্থের জন্য নিমপাতার উপকারিতা অপরিসীম।

কাঁচা হলুদের পরিচিতি ও গুনাগুন

কাঁচা হলুদ একটি প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদান, যা প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের খাদ্যভ্যাস ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাঁচা হলুদের বৈজ্ঞানিক নাম Curcuma longa। এটি মূলত আদা পরিবারের একটি উদ্ভিদ এবং বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। কাঁচা হলুদের প্রধান উপাদান হলো কারকিউমিন, যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান। এটি শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর ফ্রি রেডিকেল দূর করতে সাহায্য করে এবং কোষের ক্ষয় রোধ করে। 

বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধে কাঁচা হলুদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ত্বকের যত্নে কাঁচা হলুদের ব্যবহার অত্যন্ত জনপ্রিয়। কাঁচা হলুদ বেটে মুখে লাগালে ব্রণ, দাগ ও মেস্তা কমে যায়। এটি ত্বকের ভেতরের জীবাণু ধ্বংস করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের তেলতেলে ভাব কমে এবং প্রাকৃতিক গ্লো বৃদ্ধি পায়। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাঁচা হলুদের ভূমিকা অপরিসীম। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সর্দি কাশি ও ঠান্ডা জনিত সমস্যা কমায় এবং হজম শক্তি উন্নত করে। 

কাঁচা হলুদের রস বা দুধের সঙ্গে হলুদ খেলে শরীরের প্রদাহ কমে এবং ব্যথা উপশম হয়। এছাড়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও রক্ত পরিশোধনেও এটি বেশ সাহায্য করে। চুলের যত্নেও কাঁচা হলুদ বেশ উপকারি। মাথার ত্বকে কাঁচা হলুদের পেস্ট ব্যবহার করলে খুশকি কমে এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়। এটি মাথার ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। তাই বলা যায় যে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাঁচা হলুদের গুরুত্ব অপরিসীম।

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ একসাথে ব্যবহারের উপকারিতা 

ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ অনেক জনপ্রিয়। কাঁচা হলুদ শরীর ডিটক্স হিসেবে কাজ করে। প্রাচীনকাল থেকে ন্যাচারাল অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাঁচা হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। অন্যদিকে নিম পাতা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। নিম পাতা ঘামাচি, এলার্জি সহ নানা রোগ প্রতিরোধক। এটি শক্তিশালী জীবানুন নাশক। এছাড়াও চোখের নিচের কালো দাগ সারাতে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ ব্যবহার করা যায়। এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।

চার থেকে পাঁচটি নিমপাতা, কয়েক টুকরা কাঁচা হলুদ, এক গ্লাস পানিতে সিদ্ধ করে নিন। সিদ্ধ করা পানিতে কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে নিন। এবার পানি থেকে ছেঁকে আলাদা করুন। এই পানি ফ্রিজে রাখুন, ঠান্ডা পানি তুলার বলে ভিজিয়ে দিনে দুবার চোখের নিচে লাগান। আপনি ভালো একটা ফলাফল পাবেন। মুখের ব্রণ মানে দাগের বাড়তি দুশ্চিন্তা। ব্রোনের দাগ দূর করতে সব টোটকা ব্যর্থ হলেও নিম পাতা ও কাচা হলুদ আপনাকে হতাশ করবে না। এক মুঠো নিমপাতা ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপরে তিন চার টুকরা কাঁচা হলুদের সঙ্গে ব্লেন্ড করুন।

নিমপাতা-ও-কাঁচা-হলুদ-মুখে-দেওয়ার-নিয়ম

এবার এই পেস্ট ২০থেকে ২৫মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন তারপর ধুয়ে ফেলুন। এটা টানা দুই সপ্তাহ ব্যবহার করলে একটা ভালো ফলাফল পাবেন। ত্বক সতেজ রাখতেও নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার অপরিসীম। দূষণের এই নগরে সতেজ ত্ত্বক পাওয়া সহজ নয়। এজন্য ঘরে তৈরি করে নিতে হবে সহজ ফেস প্যাক। প্রথমে নিমপাতা সিদ্ধ করতে হবে। সিদ্ধ পানি আলাদা করে রেখে এরপর ব্লেন্ডারে সিদ্ধ নিম পাতা, কাঁচা হলুদ ও মধু দিয়ে প্যাক বানিয়ে নিতে হবে। এই প্যাক মুখে আর হাত পায়ে মেখে রেখে দিতে হবে যতক্ষণ না শুকিয়ে যাচ্ছে।

শুকিয়ে গেলে প্রথমে নিম পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক ভেজা থাকতে ময়েশ্চারাইজার লাগান। সপ্তাহে তিনদিন ব্যবহার করলে ত্বকের সতেজতা ফিরে আসবে।ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করতে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের গুরুত্ব অপরিসীম। ১০থেকে ১২টি নিমপাতা, দুই টুকরা কাঁচা হলুদ একসঙ্গে ব্লেন্ড করতে হবে। ভালো করে মুখে মাখতে হবে। আধা ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলতে হবে। টানা এক সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভালো একটা ফল পাবেন।

কেনো নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ ব্যবহার করবেন

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যের জন্য সেরা সমাধান। নিমপাতা প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিভাইরাল গুণে ভরপুর। নিমপাতা ফুসকুড়ি, অ্যালার্জি ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত নিমপাতার ব্যবহার ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখে। এছাড়া এটি রক্ত পরিশোধনের সহায়ক, যা ভেতর থেকে শরীরকে সুস্থ রাখে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদে রয়েছে কারকিউমিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান।

এটি ত্বকের কালচে দাগ, রোদে পোড়া ভাব ও বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদ দ্রুত ক্ষত সারাতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ একসাথে ব্যবহার করলে এদের উপকারিতা বহু গুণে বেড়ে যায়। এই মিশ্রণ ত্বকের গভীর থেকে ময়লা দূর করে, ব্রণ ও দাগ কমায় এবং প্রাকৃতিক উজ্জলতা ফিরিয়ে আনে। অনেকেই ফেস প্যাক হিসেবে এই দুই উপাদান ব্যবহার করে সুন্দর ও উজ্জ্বল ত্বক পেয়ে থাকে। 

এছাড়া মাথার ত্বকে ব্যবহার করলে খুশকি কমে এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়।স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্য নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ অত্যন্ত উপকারী। এগুলো শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করতে, হজম শক্তি বাড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই আলোচনা থেকে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি যে, নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ পেস্টে গোলাপজল মিশানো 

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের পেস্টে গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। প্রথমে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে। ৮ থেকে ১০ টি তাজা নিমপাতা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। ছোট এক টুকরো কাঁচা হলুদ পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর এগুলো ব্লেন্ডার বা শিলপাটায় বেটে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করতে হবে। পেস্ট খুব ঘন হলে সামান্য পরিমাণ পানি যোগ করতে পারেন। এবার তৈরি করা পেস্টে ১ থেকে ২ চা চামচ খাটি গোলাপজল যোগ করুন। গোলাপজল ত্বককে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং পেস্টকে আরো কার্যকর করে তোলে। ভালোভাবে মিশিয়ে নিন, যেন সব উপাদান একসাথে মিশে যায়। 

মিশ্রণটি যেন খুব পাতলা বা খুব ঘন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এরপর আঙ্গুল বা ব্রাশের সাহায্যে পেস্টটি মুখ ও গলায় সমানভাবে লাগাতে হবে। চোখ ও ঠোটের আশপাশ এড়িয়ে চলতে হবে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দেন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শেষে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। নিয়মিত সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই পেস্ট ব্যবহার করলে ব্রণ, দাগ, অতিরিক্ত তেল ও নিস্তেজতা কমাতে সাহায্য করে। নিমপাতা জীবাণু নাশক হিসেবে কাজ করে, কাঁচা হলুদ ত্বক উজ্জ্বল করে এবং গোলাপ জল ত্বকে সতেজতা আনে।

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের রস মুখে ব্যবহারের নিয়ম

নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের রস একসাথে ব্যবহার করলে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হয় এবং প্রাকৃতিক উজ্জলতা বৃদ্ধি পায়। এই মিশ্রণ তৈরির জন্য প্রথমে ১০ থেকে ১২ টি তাজা নিমপাতা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর একটি কাঁচা হলুদের ছোট টুকরা নিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। তারপর শিলপাটায় পিষে মিশ্রনের রস বের করতে হবে। চাইলে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে নিতে পারেন। এরপর মুখ ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে তারপর তুলোর সাহায্যে বা আঙ্গুল দিয়ে এই রস মুখে লাগাতে হবে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার একটি প্রাকৃতিক সমাধান বা প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক। এই ফেসপ্যাক তৈরি করতে প্রথমে ৮থেকে ১০টি নিম পাতা ভালোভাবে ধুয়ে এবং একটি ছোট কাঁচা হলুদের টুকরা একসাথে নিয়ে পাটায় পিষে রস বের করতে হবে। তারপর ভালো করে ফেসওয়াস বা হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। তার সেই মিশ্রনের রস তুলার বল বা আঙ্গুলের সাহায্যে মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এতে করে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব আস্তে আস্তে কমে যাবে।

শুস্ক ত্বকের জন্য ব্যবহার পদ্ধতি

শুষ্ক ত্বকের জন্য নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার প্রাকৃতিক যত্নের একটি সহজ উপায়। শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় আমরা অনেকেই ভুগি। বিশেষ করে শীতকালে বা অতিরিক্ত রোদে চলাফেরা করলে আমাদের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া, খোসা উঠা, চুলকানি ত্বকের সাধারণ লক্ষণ। তাই এসব সমস্যা দূর করতে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের মিশ্রন বেশ উপকারী। এই মিশ্রণটি তৈরি করার জন্য ৬-৭ টি নিমপাতা, এক টুকরা কাঁচা হলুদ পিষে নিয়ে একটি মিশ্রন বানাতে হবে।

নিমপাতা-ও-কাঁচা-হলুদ-মুখে-দেওয়ার-নিয়ম

তারপর এই মিশ্রণে এক চা চামচ মধু বা অ্যালভেরা জেল মিশাতে হবে। মধু বা অ্যালভেরা জেল হাতের কাছে না থাকলে তরল দুধও ব্যবহার করা যাবে। তারপর মুখ ভালভাবে পরিস্কার করে নিয়ে মিশ্রণটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। শুকিয়ে  যাওয়ার পরে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ভালভাবে পরিস্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। এভাবে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন ব্যবহার করলে আশা করছি ভালো ফলাফল পাবেন।

প্রাকৃতিক রূপচর্চায় নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের গুরুত্ব

প্রাকৃতিক রূপচর্চায় নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের গুরুত্ব অপরিসীম। শরীরের যত্নে ও ত্বকের সৌন্দর্য চর্চায় নিম পাতার উপকারিতা আমরা কম বেশি সবাই জানি। আমাদের দেশে একটি কথা প্রচলিত আছে, "যে বাড়িতে নিমগাছ থাকে, সে বাড়িতে একজন ডাক্তার বাস করে"। মানুষের চুল, শরীর, ত্বক এই সমস্ত কিছু সুন্দর ও সুস্থ রাখতে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এত কিছু জানা সত্ত্বেও নিম পাতার স্বাদ তেতো আর উটকো গন্ধের জন্য অনেকেই একে সহ্য করতে পারিনা।

আর তাছাড়া এই শীতে মুখে বা দেহে কোন প্যাক লাগানোর কথা চিন্তাও করা যায় না। নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ দিয়ে  বাড়িতে খুব সহজে একটি বড়ি বানানো যায়। কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষন করা যায় আর খেতেও তিতা লাগে না। এই বড়ি বানাতে আমাদের যা যা লাগবে-
  • ১ আটি নিমপাতা
  • কাচা হলুদ
  • প্রয়োজন মতো পানি
এবার প্রথমে নিমের পাতাগুলো আটি থেকে ছিঁড়ে নিয়ে ভালো করে পানি দিয়ে ধুতে হবে। কাঁচা হলুদ ও খোসা কেটে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এবার নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ আলাদা করে বা একত্রে শিল পাটায় খুব মিহি করে বেটে নিতে হবে। 

এবার এই মিশ্রণটি থেকে অল্প অল্প করে মিশ্রণ নিয়ে দুই হাতের তালুর সাহায্যে ছোট ছোট বড়ি তৈরি করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে খুব বেশি ছোট যেন না হয়। কারণ রোদে শুকালে এগুলো আরো ছোট হয়ে যাবে। এবার রোদে শুকাতে দিতে হবে, মাঝে মাঝে উল্টে দিবেন যেন কোনো পাশে ভেজা না থাকে। এভাবে তিন থেকে চারদিন রোদে শুকালে বড়িগুলো থেকে সব পানি শুকিয়ে যাবে। অনেকদিন ধরে সংরক্ষণ করতে পারবেন বড়ি গুলো। তাই বুঝা যায় যে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নিমপাতা ও কাচা হলুদের গুরুত্ব অপরিসীম।

লেখকের শেষ কথাঃ নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম

প্রিয় পাঠক, নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আমরা উপরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের গুরুত্ব বলে বা লিখে শেষ করা যাবেনা। নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম, নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের গুনাগুন ও পরিচিতি, নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের রস মুখে দেওয়ার নিয়ম, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কিভাবে ব্যবহার করতে হবে, শুস্ক ত্বকের জন্য কিভাবে ব্যবহার করতে হবে, নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা উপরের আলোচনা থেকে জানতে পেরেছি।

তাই বলা যায় যে, নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ব্রন, দাগ ও ত্বকের সমস্যায় ভালো ফল পাওয়া যায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রাইসা ওয়ার্ল্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Mst Rasida Islam
Mst Rasida Islam
আমি রাইসা ওয়ার্ল্ড ব্লগের অ্যাডমিন। আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট। আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি।